ও কাজল নয়না হরিণ
ও আকাশের চাঁদ অমলিন
দিয়েছ কপোলে তারার টিপ
তবু লাজে কেন লুকালে ও চোখ
তারার আলোয় আলোয়
ভুবনখানি আজ হারায়
আঁধারে দীপ নিভে গেলে
মনের প্রদীপ জ্বলে
ও রাতের আকাশ
আলোয় ভূবন ভরালে
রাতের আকাশ আজ কেন
অকারনে এককোনে
তারারা আলো পেয়ে যেন
মনে হয় আজ সব জানে
(সংক্ষেপিত)

জানালার ওধারে কান পাতি   
একটি ছোট কালো পাখী
 অবিরত, একাকী সারা রাতি
গাইলো সে কোন গান, সখী
গান গাইবারে দাও তারে
গাইছে গান, মোর তরে নহে
 প্রানের পরে চলে গেল তারই তরে
যে পাষাণী বহু দূরে রহে
    সমূখে পাহাড়, নদী বহে
বাধা অনতিদূরম্য পাহাড়সম
প্রিয়ারে দেখতে দেয় না যে
পাহাড়গুলোকে সরিয়ে দাও
ভূমি তুমি আমায় তুলে নাও ওপরে
প্রিয়া, আমায় কি দেখতে পাও?
(সংক্ষেপিত)

তারার পানে চেয়ে চেয়ে

ঘুম যে আমার আসে না যে

বাতাসের গানে পাখায় পাখায়

স্বপ্ন আসে না কেন মনেতে।।

 

 

একখানা তারা উড়ে

ঘুরে ঘুরে আর উড়ে উড়ে

অনেক অনেক তারার ভীড়ে

খুঁজে পেল সেই তারাটিরে

এমনি করে নদীর দুকূল ভরে

আসে যদি কেউ জীবন পাথারে।।

 

 

সুরেরা বাতাসে করে কানাকানি

লুকোচুরি বাঁশী বাজে কেন কি জানি

মন কি তবে তারার পাখায় পাখায়

উড়ে উড়ে তোমার পানে যেতে চায়।। (সংক্ষেপিত)

 

যদি আমি…

জুন 26, 2010

 

বিদায় হে বন্ধু, হে বন্ধু বিদায়

যদি আমি একদিন মিশে যাই

নীল কুয়াশার শিশিরে 

যদি দেখো ছোট্ট চড়ুইপাখি

মুখ বুজে মাথা গুঁজে অভিমানে

যদি দেখো নীরবে বেলীর মালা

গাঁথতে কি যেন আসে না মনে

যদি দেখো অপুষ্ট পাতা ঝরে

পড়েছে হলুদ পাতায়

আর হলুদ পাতাগুলি ঝরে

পড়েছে খয়েরী পাতায়

হেলায় পড়ে থাকা শাঁখ যদি

পার্বণে কেউ আর নাই খোঁজে

যদি অনেক দিনের পুরনো কথাই

মনে না এসে বেদন জাগে।।

 

তখন আমারে যদি না পাও নিত্যদিনের

অতি সাধারন পাওয়ার মাঝে

নিত্যদিনের ঘুমের মত যদি হারিয়ে যাই

চিরদিনের ঘুমের কাছে।।

(সংক্ষেপিত)

 

 

নীরব সঙ্গতায়...

নীরব সঙ্গতায়…

আমার কাব্যময়তার জন্য নিশুতি রাতের একাকী চাঁদকে আর কাছে চাই না

কারন এসব পার্থিবময়তায় আমার আর একেবারেই আকর্ষন নেই!

ফেলে আসা দিনগুলোর মতো শুধুমাত্র এগুলোর জন্য আমি আর বাঁচি না,

তবে এখনও নীরব সঙ্গতায় তুমি আছো জানি বলেই হয়ত বেঁচে আছি।

 

চারপাশের এই ঠুনকো সভ্যতার খোলস পরা

সমাজের সাথে শুধুমাত্র তাল মেলাবার খাতিরে

আমি আর বাঁচি না।

জানি তুমি পাশে আছো সবসময় তাই বলেই হয়ত এখনো বেঁচে আছি।

 

ভারসাম্যহীনের মতো সেজে নতুন আলোর অপেক্ষায়

আর মিছে অভিনয় করে যেতে চাই না।

তারপরও প্রায় পুরোপুরি ভুলে যাওয়া তোমার স্মৃতির

অবশিষ্ঠ ভগ্নাংশে যদি লতা হয়ে আবার বাড়তে অধিকার দাও,

তবে জানবে এখনো নীরব সঙ্গতায় তুমি আছো জানি বলে হয়ত বেঁচে আছি।

 

 

 

আমি যদি একজন আঁকিয়ে হতাম

তবে আমার অবসরের অন্যমনস্কতাকে রাঙিয়ে দিতাম

তবেই জানতাম যে একমাত্র এভাবেই আমি

তোমাকে আবার কাছে ফিরে পেতে পারি।

 

আমরা ওখানে ওভাবেই বসে থাকতাম

যেভাবে আমাদের আগের দিনগুলো কেটেছে

পেঁজা তুলোর মত মেঘের ওপরে কেটে যেতো বেশ

আর নীচে থেকে খুব ঈর্ষাভরে

সবাই আমাদের দিকে চেয়ে থাকতো।

 

আর আমি বসে বসে মনের জানালায়

ভাবছি সেইসব জায়গার কথা

যেখানে আগে তোমার আর আমার দেখা হত দুজনে

আর অবচেতন মনে টের পাচ্ছি যে

আমার হাতের তুলি কল্পনার সেই ছবি

বাস্তবের পটেই যেন টানা এঁকে চলেছে।।

তুমি কি আজ মিশে যেতে চাও

এই রাত্রির নিস্তব্ধতায়

যাবে কি, বলো যাবে কি

শুধু তোমার কথা ভেবে

কতদিন এমন একটি গান লিখতে চেয়েছি।

 

নির্জন- পুরো ফাঁকা একটা বাসে

চলো চলে যাই দুজনে

তোমাকে নিয়ে যাবো সেখানে

যেখানে কাঠের পুতুলের

মিছে মায়া ভালবাসা নেই।

 

আমি তোমার সাথে

সেখানে হেঁটে চলে যেতে চাই – সেই দূরে, বহুদূরে

সে দিনটি হয়ত মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে

ভ্যানগগের দি হারভেষ্টার বা গ্রিনকর্ন চিত্রকর্মের মত

দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ দিয়ে হেঁটে যাব আমি

যেখানে হলুদ শস্যে মাঠ ভরে গেছে

তবুও কি তুমি আমার সাথে পথে পথ মেলাবে না।

 

চলো চলে যাই পাহাড়ের কোন চূড়ায়

যেখানে তোমাকে আমাকে সদ্য জন্ম নেয়া

দুটি কৃষ্ণপক্ষের পাখী বলে ভ্রম হবে

যা সবাই হয়ত অবাক বিস্ময়ে চেয়ে রবে।

 

ওখানে আমরা হয়ত এতই নিশ্চিন্ত হয়ে যেতাম যে

সারাদিন একমাত্র বৃষ্টির শব্দেই আমাদের ঘুম ভাঙত

যেমন করে গহীন জঙ্গলের একমাত্র বাড়ীতে

অনেকদিন পর বরষার প্রথম বৃষ্টির

টুপটাপ শব্দ শোনা যায়

সারাটি জীবন এভাবেই যদি

স্বপ্ন আর কল্পনায় সত্যিই কেটে যেত

তবে কেমন হত!

 

 

 

এক বরষার দিন

মার্চ 2, 2009

 

 

আজ সারাটা দিন কেমন যেন শীত-শীত, 

প্রকৃতি বড় বিষাদাচ্ছন্ন 

সারাদিন টুপটাপ বৃষ্টি, হাওয়া বইছে বেশ - 

এখনও হয়নি পরিশ্রান্ত 

আঙ্গুরের থোকাগুলো যদিও দুলছে, 

তবু দেয়াল আঁকড়ে পড়ে থাকে যেন 

কিন্তু বাতাসের দাপটে প্রতিবারই ঝরাপাতারা ঝরে যাচ্ছে 

আর এই দিনটি বড় নিরানন্দ…….. 

  

আমার জীবন যেন তেমনি আঁধারে ভারাক্রান্ত 

মনে সারাদিন বৃষ্টি – হাওয়া বইছে বেশ – হয়নি শান্ত 

  

মন আমার বারে বারে চলে যায় 

আবছা মনের জানালায় - 

দিগন্ত-বিস্তৃত অতীতে 

কিন্তু তবু যৌবনের উচ্চাশা – মোটা দাগে 

এত তান্ডবের পরও জেগে থাকে 

আর এই দিনটি তো অবশ্যই কাটছে নিরানন্দ…….. 

  

মন, তুমি শান্ত হও!! 

আঁধারের কালো মেঘের ওপারে 

জেনো আলো হাসছে 

কারন তোমার নিয়তি যে আর সবার মত - 

তা আজ জানতে পেরেছো বলে 

সবার জীবনে কিছু বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিতেই হয় 

সবার জীবনে কিছু কিছু দিন তো অবশ্যই 

অন্ধকারাচছন্ন কাটাতে হয়।।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.